নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 923 বার পঠিত
ফুটবলার হিসেবেই পরিচিত সালাউদ্দিন রুবেল। এক সময় মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেললেও তার পেছনে রয়েছে ভয়ংকর গল্প। ফ্যাসিবাদ আওয়ামীলীগের শাসনামলে আওয়ামীলীগ নেতা সেজে কামিয়েছেন প্রচুর টাকা। জুলাই অভ্যত্থানে আওয়ামীলীগের পতনের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে সাজার চেষ্টা করছে বিএনপির কর্মী। এই ফুটবলারের বিরুদ্ধে রয়েছে ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগ। খেলার নামে ক্যাসিনো ব্যবসা, মাদক কিংবা জুয়া সবই পরিচালনা করেছেন নিপুন হাতে। প্রশ্ন উঠেছে কে এই সালাউদ্দিন রুবেল। আর তার খুটির জোরই বা কে?
দক্ষিন খান এলাকার বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাকে বিএনপির বিভিন্ন নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে দেখা গেছে। বিএনপির খেলাধুলার কোন আয়োজন থাকলে দাওয়াত না পেলেও ক্রীড়াপ্রেমি হিসেবে পরিচয় দেয়া খেলোয়ার হাজির হন নিজ দ্বায়িত্বেই। সম্প্রতি বিএনপির সোনালী অতীতের সন্ধ্যানে হিল্লোল, ফুটবল আয়োজনে সাবেক ফুটবলার ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলামের পেছনে ও পাশে বসে ছবি তুলতে দেখা যায়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে দক্ষিন খান থানার এক বিএনপি নেতা বলেন, কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোষর ৪৮ নং ওয়ার্ড নেতা সালাউদ্দিন রুবেল এখন বিএনপির অনুষ্ঠানে আসে। বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে সে আবার বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও মনে করেন তিনি।
জানা যায় ঢাকা ১৮ আসনের অবৈধ্য এমপি জুলাই ছাত্র জনতা হত্যার অন্যতম আসামি নিপা গ্রুপের চেয়ারম্যান খসরু চৌধুরী বিশ্বস্ত সহযোগি শফিকুল ইসলাম শামীমের চ্যালা হিসেবে পরিচিত সালাউদ্দিন রুবেল। তাদের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলো তিনি।
ফুটবেল খেলার আড়ালে প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ছবি তুলে তা দিয়ে মানুষকে ভয় ভীতি দেখানোর অভিযোগ আছে এই রুবেলের বিরুদ্ধে। এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করাই ছিলো তার প্রধান লক্ষ্য। স্বৈরচার হাসিনার পলায়নের পর ভোল পাল্টে আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে ভিড়তে শুরু করে এই রুবেল।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবী ফুটবল খেলাকে পুজি করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ছবি তুলে রাতারাতি হয়ে যান বিএনপি কর্মী। এখন বিএনপির কমিটিতে প্রবেশের জন্য শুরু করেছে তোড়জোড়। আর এই কাজে সহযোগিতা করছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা।
জানা যায় বিভিন্ন রকম বানিজ্যিক কাঠামো তৈরি করে টাকা উপার্যন সালাউদ্দিন রুবেলের পেশা। পলাতক ফ্যাসিবাদি এমপি খসরু চৌধুরী এবং তার সহযোগি শফিকুল ইসলাম শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে মেলার আয়োজন করেন রুবেল। মেলা তার মূল লক্ষ্য নয় এর আড়ালে জুয়ার আয়োজন করাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানা যায়। জুয়ার টাকা দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু অসাধু বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে চলে সে।
খোজ নিয়ে জানা যায় অদৃশ্য শক্তির বলে উত্তরায় ক্লাব পরিচালনার আড়ালে অবৈধ্যভাবে বিভিন্ন শালিশি বৈঠক করে সালাউদ্দিন রুবেল। ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে । আছে ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগও। ৫০ নং ওয়ার্ড কমিশনার ডি এম শাহীনের সহযোগি হিসেবে পরিচিত এই রুবেলের বিরুদ্ধে যমুনা টেলিভিশনের এক সংবাদে ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগের খবর প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয় দক্ষিনখানের আজমপুর ক্লাবের জড়িত এই ফিক্সিং এর সাথে ।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশীপ লীগের ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগ আছে সালাউদ্দিন রুবেলের বিরুদ্ধে। যেই অভিযোগে সেই সময় আজমপুর ক্লাবের কোচ পদত্যাগ করেন । ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে কোচ সাবেক ফুটবলার সাইফুর রহমান মনি এবং ম্যানেজার জালাল আহমেদ পদত্যাগ করেন। ক্লাবের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে রুবেলের বিরুদ্ধে। সেই টাকায় ফুর্তি করা আর বিদেশ ভ্রমনের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের আগে মুক্তিযোদ্ধা দলের পেশাদার লীগের সদস্য ছিলেই এই রুবেল।
যদিও রুবেলের দাবী তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। যারা পদত্যাগ করেছে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পেরেই পদত্যাগ করেছে। সে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বলেও দাবী করেন। তবে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা সত্য নয় দাবী করে বলেন, একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আওয়ামীলীগের এমপি এবং নেতাদের সাথে বিভিন্ন জাতীয় দিবস এবং ঈদ উৎসবে যে পোস্টার তার ওয়ালে ছিলো সেটি কিসের ভিত্তিতে এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি। তবে ফ্যাসিবাদের পতনের পর সালাউদ্দিন রুবেল তার ফেসবুক থেকে আওয়ামীলীগ আমলের সব ছবি এবং পোস্ট মুছে দিয়েছেন।
Posted ৬:১৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।